চলুন, আজকে আপনাদের একটা গল্প বলি। না, এটা শতাব্দীপূর্ব কোনো গল্প নয়! ভবিষ্যতের কোনো কল্পকাহিনিও নয়! তবে? এটা বর্তমানের গল্প। বর্তমানে আশপাশের পরিবর্তনের গল্প।
এই যে মনে করেন, আপনি বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র বানাতে চান। আপনি কি জানেন কী কী করতে হবে বর্তমানের প্রেক্ষাপটে? আপনি কি জানেন জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে পাসপোর্ট বানানো তুলনামূলকভাবে সহজ কাজ? আজব লাগছে? আজব লাগলেও এটাই সত্য এবং সহজ কথা। সত্য কথা আমরা শুনতে চাই না৷ আমরা গুজবে কান পাতি এবং তাই বিশ্বাস করি। খুব জোর গুজব বাজারে চলে যে দালাল ছাড়া পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। এটা সর্বৈব মিথ্যা বৈ কি কিছু নয়। নিজের পাসপোর্ট নিজেই করতে পারবেন যদি আপনার সব ডকুমেন্টস ঠিক থাকে এবং আপনার অ্যাপ্লাই এ কোনো ভুল না হয়। তাহলে পাসপোর্টের গল্পটাই আগে বলি?
সুতরাং শর্ত দুটো…
এক. সব ডকুমেন্টস শুদ্ধ এবং একটি অপরটির সাথে মিলতে হবে। একটু খুলেই বলি কেমন?
ধরে নিন আপনার জন্ম নিবন্ধন (অবশ্যই অনলাইন হওয়া লাগবে, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নিয়ে পরে বলছি), জাতীয় পরিচয়পত্রের সব তথ্য একই। অর্থাৎ, আপনার নাম, আপনার পিতামাতার নাম এবং জন্ম তারিখ একই, ঠিকানায় গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা একই আছে, তাহলে বুঝবেন আপনি মোটামুটি ঠিক লাইনেই আছেন। এবার একটু কষ্ট করে আপনার পিতামাতার আইডি কার্ডগুলো দেখে ফেলুন। তাদের আইডি কার্ডের নাম আর আপনার আইডি কার্ডে পিতামাতার নাম কি একই, বানান মিলছে? যদি একই হয়, তবে অভিনন্দন। আপনি আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন। দালালদের হাত থেকে আরও রক্ষা পেয়ে গেলেন। এবার একটু জটিল প্রশ্ন… আপনি কি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট করছেন? যদি উদ্দেশ্য তাই হয়, তাহলে আপনার সার্টিফিকেটে আপনার নাম ও পিতামাতার নাম কি আপনার NID এর সাথে মিলেছে? যদি মিলে, তাহলে আপনাকে টুপিখোলা অভিনন্দন। আপনি চাইলে এখনই শুদ্ধভাবে অনলাইনে অ্যাপ্লাই করে ফেলতে পারেন এবং পেয়ে যেতে পারেন কাঙ্ক্ষিত পাসপোর্ট।
দুই. সঠিকভাবে অনলাইনে ফরম পূরণ করবেন। ওয়েবসাইটটি হচ্ছে https://epassport.gov.bd। এখানে ঢুকে শুরুতেই একটা অ্যাকাউন্ট খুলে নিবেন আপনার ইমেইল দিয়ে। এ ওয়েবসাইটের প্রত্যেক পেজেই নিচে ক্যাপচা থাকে। সেটা ঠিকভাবে ফিল আপ না করলে পরবর্তী পেজে যায় না। তাই সদা সতর্ক থাকবেন।

নাম সংক্রান্ত বিষয়াবলি: Given Name এ আপনার নামের প্রথম অংশ ও Surname এ নামের শেষের অংশ দিবেন। ধরে নেই, আপনার নাম দু শব্দের (Kofil Ahmed)। সেক্ষেত্রে Given Name এ দিবেন Kofil, আর Surname এ দিবেন Ahmed. নামে যদি তিনটি শব্দ থাকে (Md Kofil Ahmed), সেক্ষেত্রে নিয়মটা হলো Given Name এ Md Kofil ও Surname এ Ahmed দিবেন। যদি এক শব্দের নাম হয় (Kofil), তবে Given Name এ কিছুই লিখবেন না। Given Name এর পাশে Optional লেখাটা মূলত এ কারণেই থাকে। অর্থাৎ যাদের এক শব্দের নাম, তারা শুধু Surname ফিল-আপ করবেন। এক্ষেত্রে শুধু Kofil লিখবেন Surname এ। এরপরের স্টেপগুলো বেশ সহজ।
পিতামাতার ডিটেইলস: আপনার পিতামাতার নাম, NID থাকলে নম্বর ইচ্ছে করলে দিতেও পারেন (পিতামাতার NID No. অপশনাল)। পিতামাতার পেশা তথা Profession খেয়াল করে দিবেন। প্রচুর অপশন পাবেন সেখানে, সেখান থেকে উপযুক্ত অপশন পছন্দ করবেন। পিতামাতা জীবিত না থাকলে সেক্ষেত্রে Others সিলেক্ট করা লাগবে (জমা দেওয়ার সময় অবশ্যই ডেথ সার্টিফিকেট লাগবে)। 

পেশা সংক্রান্ত বিষয়াবলি: নিজের পেশা দেওয়ার সময় সাবধানে দিবেন। যাই দেন, তার পক্ষে আপনার নিকট ডকুমেন্ট থাকতে হবে। শুধু Private Service এ ডকুমেন্ট লাগে না। এরপরেও অনেক RPO তে এটার জন্য অনেক ভোগান্তিতে ফেলে। আপনি যে পেশাতেই থাকেন না কেন, সেটার কোনো ধরনের প্রমাণ (যেমন: আইডি কার্ড) দিতে পারলেই আপনি সেফ। আমি নিজে স্টুডেন্ট ছিলাম, তাই স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি দিয়েছিলাম। আমাকে আর কিছু বলে নাই।

ঠিকানা সংক্রান্ত বিষয়াবলি: ঠিকানা দেওয়ার সময় অনেকেই খেয়াল করেন যে আপনার NID এ দেওয়া পোস্ট কোড আর পাসপোর্ট সার্ভারের পোস্ট কোড এক নয়। মূলত অনেক জেলাতেই এমনটা হয়। নতুন পোস্ট কোডগুলো এখনও আপডেট হয়নি। এটি কোনো সমস্যা করবে না। পোস্ট অফিসের নাম দিলে অটো পোস্ট কোড বসে যাবে। এতে আপনার কিছুই করার নেই। এটার জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশনে ধরলে আপনি বলে দিবেন যে সার্ভারে এমন ছিলো। পাসপোর্ট অফিস এটা নিয়ে সাধারণত আটকায় না। কারণ এটা তাদেরই সমস্যা, আমাদের না। ঠিকানা দেওয়ার সময় অপশনাল কিছু অপশন দেখালেও সেগুলো জানলে পূরণ করে ফেলবেন। অনেক পাসপোর্ট অফিসেই রোড না দিলে ঝামেলা বাধায়। অনেকে জেনেও দেন না ইচ্ছে করে, NID তে থাকা সত্ত্বেও।

মোবাইল ও ইমার্জেন্সি কন্টাক্ট: নিজের মোবাইল নম্বর অবশ্যই দিবেন। সেটা সবসময় অ্যাক্টিভ রাখবেন। শেষের দিকে Emergency Contact নামে একটা অপশন থাকে। সেটাও ফিলআপ করতে হবে। সেখানে যদি পিতামাতার কাউকে সিলেক্ট করেন, দেখবেন যে অটো সব তথ্য চলে আসছে। অন্য কাউকে সিলেক্ট করলে আপনাকে ম্যানুয়ালি Emergency Contact এর Details পূরণ করতে হবে। এ অংশটুকু পাসপোর্টে থাকে, তাই পরিচিত এবং বিশ্বস্ত কারো নাম ও ঠিকানা দিবেন। Emergency Contact এর মোবাইল নম্বরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটাতেই সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য কল করে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন: পুলিশ ভেরিফিকেশন একেক এলাকায় একেক রকমভাবে হয়। একেক এলাকায় একেক রকম ডকুমেন্টস চায়। যেমন: আমার এলাকায় (কুমিল্লার বরুড়ায়) শুধু NID এর ফটোকপি ও চেয়ারম্যান সার্টিফিকেটের (মূলত একেই বর্তমানে নাগরিকত্ব সনদ বলে) ফটোকপি চেয়েছিলো। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিলের কপি, গার্ডিয়ানের NID এর ফটোকপি ইত্যাদি চায় (পুলিশ কল করে যা ডকুমেন্টস চাইবে তাই দিবেন)। পুলিশ টাকা চাইতেও পারে, নাও চাইতে পারে। আপনি চাইলে দিতেও পারেন, নাও দিতে পারেন। এটা আপনার আর সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের ব্যাপার। কোনো পুলিশ থানায় ডাকে, কেউ বাইরে ডাকে, কেউ বা আবার আপনার বাসায় এসে চাও খেয়ে যেতে পারে, কাউকে আবার ডকুমেন্টস ই-মেইল করে দিলেও হয়।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট: অনেক RPO তেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া লাগে। বিশেষ করে ঢাকার RPO গুলোতে। যারা RPO মানে বুঝছেন না, RPO মানে হলো Regional Passport Office তথা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। সেক্ষেত্রে আপনাকে অনলাইনে অ্যাপ্লাই করার পর ছবি তোলার জন্য ডেট দিতে বলবে। সাধারণত ঢাকার RPO গুলোতে ভিড় বেশি হয়। জেলা শহরের RPO গুলোতে সাধারণত কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল লাগে না। অর্থাৎ আপনি চাইলে একদিনেই অনলাইনে অ্যাপ্লাই করে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিয়ে ছবি তুলে চলে আসতে পারেন। আমি পারসোনালি সবাইকে নিজ নিজ এলাকা থেকে অ্যাপ্লাই করতে অনুরোধ করবো। এতে পুলিশ ভেরিফিকেশন একবারই হবে। তাছাড়া এলাকার পাসপোর্ট অফিসগুলোতে সাধারণত অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে না। এতে করে ঢাকার উপর চাপও কমে।

পাসপোর্টের প্রকারভেদ (সাধারণ): পাসপোর্ট এর সরকারি ফি মূলত পাসপোর্টের পৃষ্ঠা নম্বর ও মেয়াদের সময়কালের উপর নির্ভর করে। বর্তমানে ৪৮ পেজ ও ৬৪ পেজ দুধরনের পাসপোর্ট দেওয়া হয়। দুটোই ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদে নেওয়া যায়।
তিন ধরনের ডেলিভারি হয় বর্তমানে:
১. রেগুলার ডেলিভারি: ১৫ কার্যদিবস / বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের দিন থেকে ২১ দিন (যদিও বাস্তবে ৩০-৪০ দিন বা তারও বেশি সময়ও লাগে আবার ১৬-১৭ দিনেও হয়ে যায় যদি পাসপোর্ট অফিসে চাপ কম থাকে। নতুন হলে সবাইকে রেগুলার ডেলিভারিতে করার অনুরোধ করবো)।
২. এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৭ কার্যদিবস / বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের দিন থেকে ১০ দিন (বাস্তবে রেগুলার ডেলিভারি থেকে কয়েকদিন আগে পাবেন।  বেশি জরুরি না থাকলে এটা সিলেক্ট করার প্রয়োজন নেই)।
৩. সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ২ কার্যদিবস (এটা মূলত পাসপোর্ট রিইস্যুকারীরাই পান, এটা কালেক্ট করতে হলে আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে আসতে হবে। বুঝতেই পারছেন, একদিনে প্রিন্ট করে পরেরদিন আপনার RPO তে পাঠালেও সেখানকার কর্মকর্তারা খুলতে দেরি করলে আপনি দুদিনে পাবেন না। স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন হলে সেক্ষেত্রে আগেই পুলিশ রিপোর্ট সাবমিট করা লাগবে। এখানে ডিরেক্ট প্রিন্টে চলে যাবে, তাই আগের সব ডকুমেন্ট ঠিক থাকা লাগবে। নতুবা সুপার এক্সপ্রেস সিলেক্ট করে আপনি লাভবান হবেন না।)
পাসপোর্টের ফি: এবার আসি পাসপোর্টের ফি এর ক্ষেত্রে
৪৮ পেজ, ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের ক্ষেত্রে:
১. রেগুলার ডেলিভারি: ৪০২৫ টাকা
২. এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৬৩২৫ টাকা
৩. সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮৬২৫ টাকা

৪৮ পেজ, ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের ক্ষেত্রে:
১. রেগুলার ডেলিভারি: ৫৭৫০ টাকা (আমজনতার জন্য এটাই বেশি পপুলার প্যাকেজ)
২. এক্সপ্রেস ডেলিভারি:  ৮০৫০ টাকা
৩. সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১০৩৫০ টাকা

৬৪ পেজ, ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের ক্ষেত্রে:
১. রেগুলার ডেলিভারি: ৬৩২৫ টাকা
২. এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮৬২৫ টাকা
৩. সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১২০৭৫ টাকা

৬৪ পেজ, ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের ক্ষেত্রে:
১. রেগুলার ডেলিভারি: ৮০৫০ টাকা
২. এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১০৩৫০ টাকা
৩. সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১৩৮০০ টাকা

মূলত সোনালি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ওয়ান ব্যাংকসহ আরও অনেকগুলো প্রাইভেট ব্যাংকে পাসপোর্টের ফি জমা দেওয়া যায়। সবাই AChallan এর মাধ্যমেই জমা নেয়। আপনি আপনার নিকটস্থ ব্যাংকে গিয়ে জিজ্ঞেস করে আসতে পারেন ওরা AChallan এ টাকা জমা নেয় কি না। তাছাড়া Google Play Store এ AChallan নামে একটি অ্যাপ রয়েছে যেটি দিয়ে বিকাশ, রকেট, নগদ ও কার্ড দিয়ে সহজেই পেমেন্ট করে AChallan কপি পাওয়া যায়। অ্যাপটা যেহেতু নতুন, তাই কিছু বাগ আছে। নিকটবর্তী ব্যাংকেই পেমেন্ট করতে সাজেস্ট করবো আপাতত। ভবিষ্যতে হয়তো এই অ্যাপটাই সবাই ব্যবহার করবে।


ছবি তুলতে যাওয়ার সময় যেসব ডকুমেন্টস নিবেন:
১. অ্যাপ্লিকেশন সামারি কপি (অনলাইন থেকে প্রাপ্ত, গুগল ক্রোম দিয়ে ডাউনলোড করলে এক পৃষ্ঠাতেই পাবেন। অনেক RPO আবার দু পৃষ্ঠায় সামারি কপি দেখলে ফেরত পাঠায়)
২. মূল অ্যাপ্লিকেশন কপি (অ্যাপ্লাই এর পর অনলাইন থেকে ডাউনলোড করবেন)
৩. AChallan এর কপি (ব্যাংকে টাকা জমা দিলেই পাবেন – ব্যাংকের আপডেটেড লিস্ট ওয়েবসাইটে আছে)
৪. পুরাতন পাসপোর্ট (যদি থাকে)
৫. অ্যাপয়েন্টমেন্ট কপি (যদি আপনার RPO তে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া লাগে, না লাগলে দরকার নেই)
৬. বর্তমানে যে পেশায় আছেন, তার একটা আইডি কার্ড (অনেক পাসপোর্ট অফিসেই চায়)
৭. পিতামাতার NID এর ফটোকপি (অনেক পাসপোর্ট অফিসেই চায়), পিতামাতা না থাকলে তাদের ডেথ সার্টিফিকেটের ফটোকপি
৮. আপনার নিজের NID এর ফটোকপি (মেইন কপিও সাথে রাখবেন), বয়স ২০ এর কম হলে অনলাইন জন্মসনদের ফটোকপি (মেইন কপি সাথে রাখবেন)

**আপনার NID যদি রিসেন্টলি (এক মাসের মধ্যে) সংশোধন করে থাকেন, তবে সেটার একটা ভেরিফাইড কপি লাগতে পারে। সেটা উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে পাবেন। NID এর মেইন কপি মানে কিন্তু স্মার্ট কার্ড না। অনলাইন কপিটি কালার প্রিন্ট করে লেমোনেটিং করে সেটাকেই আপনি মেইন আইডি কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন যতদিন না স্মার্ট কার্ড পান।

অনলাইনে পাসপোর্টের অবস্থা চেক: একবার ছবি তুলতে পারলে অনলাইনে Enrolment In Process দেখাবে। এগুলো আপনি https://www.epassport.gov.bd/authorization/application-status লিংকে গিয়ে Application ID (ডেলিভারি স্লিপে থাকবে) বা OID (সামারি কপিতে থাকে) আর জন্ম তারিখ দিয়ে চেক করতে পারবেন। কয়েকদিনের মধ্যেই সেটা Backend Verification এ যাবে (এ ধাপে তথ্য অটো NID এর সাথে চেক করা হয়, এক দু সপ্তাহের বেশি এ স্টেপে থাকলে অবশ্যই RPO তে গিয়ে AD মহোদয়ের সাথে দেখা করে আসবেন)। Backend Verification থেকে Pending SB Police Clearance এ চলে যাবে। তখনই কয়েকদিনের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়ে যাবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের পরের স্টেপটি হলো Pending Final Approval. এ ধাপে আপনার পাসপোর্ট AD মহোদয়ের সাইনের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় থাকে কয়েকদিন। এ ধাপ থেকে পরবর্তীতে Pending In Print Queue এ চলে যায়। সেখানে গেলে বুঝবেন যে এবার আপনি পাসপোর্ট পেয়েই যাচ্ছেন। আর আপাতত আটকানোর কোনো সুযোগ নেই। কয়েকদিন পরে Passport Shipped দেখাবে। তারপরেই দেখাবে সেই কাঙ্ক্ষিত Passport Ready For Issuance স্ট্যাটাস। তখনই স্লিপটি নিয়ে ধুম করে গিয়ে পাসপোর্টটা নিয়ে আসবেন। নিজের পাসপোর্ট নিজে আনাটাই বেটার। সেসময় আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আসতে হবে। আসার সময় RPO এর সামনে একটা দুটো ছবি তুলতে ভুলবেন না যেনো!

দালাল তথা দরবেশ বাবা থেকে সাবধান!
আমি আপনি বিষয়গুলো জানি না বলেই দালালরা সুযোগ নেয়। আমি এখন একটু ব্যক্তিগত মতামত দিবো। আশা করি কেউ কিছু মনে করবেন না। দেখেন, আপনার পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট (ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ স্ক্যান) এর জন্য আপনাকে পাসপোর্ট অফিসে যেতেই হবে।
পাসপোর্ট আনার জন্যও আপনাকে যেতেই হবে। ডকুমেন্টস এ কোনো ভুল না থাকলে আপনার আর পাসপোর্ট অফিসে যাওয়া লাগবে না। দালাল তো আর আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে আসবে না, কাজেই আপনাকেই যেতে হবে। বাকি রইলো অনলাইনে অ্যাপ্লাই আর ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া। ফেসবুক চালাতে পারেন বেশিরভাগ মানুষই। অনলাইন অ্যাপ্লাই একদমই না পারলে পরিচিত কাউকে বা কোনো দোকানে গিয়ে করবেন। এতে তো কোনো সমস্যা নেই। অনেকেই ফর্ম পূরণ করার সময় একটু আধটু ভুল করেন। সেগুলো এনরোলমেন্ট অফিসারকে বললেই ঠিক করে দিতে পারে (যখন ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয় তখন)। শুরুতে যদি ঢুকার সময় আটকায়, তখন সুন্দর করে AD স্যারের রুমে গিয়ে স্যারের একটা সাইন নিয়ে আসবেন। তখন এনরোলমেন্ট অফিসার আপনার তথ্যাদি ঠিকমতোই অনলাইনে আপলোড করবে। ডেলিভারি স্লিপ আনার সময় নিজের নাম, জন্ম তারিখ, পিতামাতার নাম, ইমার্জেন্সি কন্টাক্ট ও মোবাইল নম্বর ভালোভাবে খেয়াল করবেন। কোনো ভুল পেলে তৎক্ষনাৎ অফিসারকে বলবেন। উনিই ঠিক করে দিবেন। এখন একটা ছোট্ট প্রশ্ন। এত সহজই যদি প্রসিডিউর হয়, তবে কেনই মানুষ দরবেশ বাবাদের ধরে? কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ পাসপোর্ট করে শ্রমিক ভিসায়। সেজন্য খুব সুন্দর করে একজনের একাধিক পাসপোর্ট থেকে শুরু করে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও জন্ম তারিখ দিয়ে পাসপোর্ট করে থাকে। অনলাইনের যুগে পদে পদে আটকায় তারাই। তখনই মঞ্চে দরবেশ বাবাদের আবির্ভাব হয়। জন্ম তারিখ নিয়ে খুব সুন্দর একটা সিস্টেম আমি রিসেন্টলি জানতে পেরেছি। মূলত জন্ম নিবন্ধন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে কয়েকদিন দৌড়াদৌড়ির সময় ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করেছিলাম। মনে করেন, কোনো দেশে শ্রমিক ভিসা পেতে হলে ২৩ বছর বয়সী হওয়া লাগে। আগে যেহেতু শুধু জন্ম নিবন্ধন দিয়েই পাসপোর্ট করা যেত, তখন প্রসিডিউর ছিলো অনেকটা এমন – একজন ১৭ বছরের ছেলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটা ভুয়া জন্ম সনদ তুলে নিতো (৬ বছর বাড়িয়ে)। অর্থাৎ তার বয়স জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী ২৩ বছর (বাস্তবে যদিও ১৭)। সে তখন ওই জন্ম নিবন্ধন দিয়েই পাসপোর্ট করে ফেলতো দরবেশ বাবাদের ধরে। তখন ওই পাসপোর্ট দিয়ে দেশের বাইরে যেতো এবং ৬ বছর বিদেশে থেকে জন্ম নিবন্ধনের ২৯ বছর বয়স (বাস্তবে ২৩ বছর) অবস্থায় বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ নিয়ে এসে একটা ছোটোখাটো বাড়ি, হালকা ব্যাংক ব্যালেন্স আর একটা ব্যবসা শুরু করে দেয় এবং নতুন একটা ২৩ বছর বয়সী আরেকটা জন্ম নিবন্ধন করে। কারো যদি ইচ্ছে হয়, আবার বিদেশ যাবে, তখন আবার ওই জন্ম নিবন্ধন দিয়েই আবার নতুন পাসপোর্ট করে চলে যেতে পারতো। বুঝতেই পারতেছেন আমাদের দেশের পাসপোর্টের মান আন্তর্জাতিকভাবে কেন এতো কম। মূলত অনৈতিক কাজ করার জন্যই দেশে দরবেশ বাবাদের দৌরাত্ম্য এতোটা বেড়েছে। এখন অনলাইন জন্ম নিবন্ধন হওয়ায় ব্যাপারটা একটু জটিল হয়ে গেছে। এখন পাসপোর্ট অফিসের অটোমেটেড সফটওয়্যার ডকুমেন্টস না মিললে ধুমধাম Backend Verification এ পাঠিয়ে দেয়। জিনিসটা আমার কাছে বেশ জোস লাগছে। অটোমেটেড সফটওয়্যারের কাছে দালালরা ধরা খাচ্ছে। আসুন আমরা সবাই সচেতন হই। দালাল তথা দরবেশ বাবা মুক্ত পাসপোর্ট সেবা নেই।

যাই হোক, অনেকক্ষণ পাসপোর্ট নিয়ে বকবক করলাম। পাসপোর্ট করতে যে জিনিসটি একদম অপরিহার্য লাগে সেটা হচ্ছে NID (যদিও বয়স ২০ এর কম হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন দিয়েই পাসপোর্ট এর অ্যাপ্লাই করা যায়)। NID এর অ্যাপ্লাই বর্তমানে অনলাইনেই করা যায়। খুবই চমৎকার ব্যাপার, তাই না?
আজকে অনেক বকবক করে ফেলেছি। NID এর আলাপটা আরেকদিন করি, কেমন?