সিটির এক দু’দিন আগে থেকেই একটা গুঞ্জন শুরু হয়। সেটা হচ্ছে সিটি পেছানো নিয়ে। কিছু একটা ইস্যু তুলে শুরু হয় সিটি পেছানোর জন্য হাহাকার। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যারা বেশ সিরিয়াস পড়াশোনায়, তারাই এ জিগির তুলে দেয় সিটি পিছানোর। ওরা নিজেরা কিন্তু সিলেবাস শেষ করে ফেলে আগেই। মোটামুটি স্টুডেন্টরা পড়ে তখন বিপদে। ওরা ভাবতে থাকে সিটি পিছাবে। ওরা সেই চিন্তা করে কল্পনার জাল বুনতে শুরু করে। সিটির ডেট পরিবর্তিত হলে ওই টাইমে সে কী করবে, তা ভেবেই কেউ দু এক ঘণ্টা পার করে দেয়। কেউ আবার বান্ধবীর সাথে ঘুরতে বেরিয়ে যায় অতি আনন্দের সহিত। ওই টাইমে সিরিয়াস স্টুডেন্টরা ঠিকই ওদের পড়াশোনা এগিয়ে নেয়। এভাবেই জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছে সিরিয়াস স্টুডেন্টদের দল। কেউ কেউ আবার পড়া শেষ করে রাতে রুমে এসে অন্যরা কী পড়ছে সেটা দেখে যায়।
যাই হোক, এবারের মিডের বন্ধের সময় আগেই বলেছিলাম যে চারটি সিটি এসে দিতেই পারি। কারণ আগে ট্যুর ও নাইটের জন্য সিটি ওভাবে দেওয়া হয়নি। অনেকেই বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলো। কেউ প্রত্যক্ষভাবে, কেউ বা পরোক্ষভাবে… যাই হোক কাজের কথায় আসি। কেউ কেউ অানন্দের আতিশয্যে পাঁচটি সিটিও দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু হায়, পূর্ব অভিজ্ঞতা বলে, যত গর্জে তত বর্ষে না… মিডের শুরুতে সবাই ভাবে, এবার বাসায় গিয়ে সব শেষ করে দিবে। কিন্তু মানুষ ভাবে এক, আর হয় আরেক। যাই হোক, অবশেষে স্যার-ম্যাডামদের বলেকয়ে আমি তিনটা সিটি মিডের পরের সপ্তাহে দেওয়ার ব্যবস্থা করলাম। শুরুতে কেউ কিছু না বললেও আমি জানি, পরীক্ষার এক দু’দিন আগেই শুরু হবে সেই অমর বচন, ‘সিটি পিছা’। ঠিক তাই হলো, কিন্তু যারা সিটি পিছাতে উদগ্রীব, তাদের সবারই পড়া শেষ, ভালোমতোই। শুধু উপর দিয়ে ভাব করতেছে, কিচ্ছুটি পড়ি নাই।